Tuesday, April 21, 2026
বাড়িসাহিত্যফাগুনের মরু প্রান্তর - আবুজার হুসাইন

ফাগুনের মরু প্রান্তর – আবুজার হুসাইন

ফাগুনের মরু প্রান্তর

কত প্রহর যে কেটেছিল গল্পে ফাগুনের ভেতর,
হাসি খুশির দিন, কখনো দুঃখের মৃদু আলাপন;
তার ওড়নায় লেগে থাকতো সন্ধ্যার হাওয়া,
আমার দেহে তার স্পর্শের লাজুক উষ্ণতা–
দুটি হাতে কুসুমের গন্ধ দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়াত।
সজনে ফুলে মৌটুসি, টুনটুনির দোল,
সেগুনবাগিচায় কোকিলের দীর্ঘ স্বর ভেসে যেত দূরে;
ফাল্গুনের অলস দুপুরে
সে নিঃশব্দে ভর দিত আমার বাহুতে।
দৈন্যতার দিন কবে ফুরোবে
একটি সংসারের স্বপ্ন কবে রূপ নিবে,
সে বলতো মৃদুস্বরে।
আমি বৈরাগীর গীতিকা বলতাম কবিতায়,
ফাগুনের হাওয়া দুজনকেই শিহরিত করতো
তার মায়াভরা চোখে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটতো।
পথের ধারে অনাদরে জন্মানো ভাটি ফুলে
মৌমাছির একগুঁয়ে গুঞ্জন;
কচি ডগার ফুলটি ছিঁড়ে গুঁজে দিতাম তার চুলে,
সে হাসত, মনে হতো পৃথিবীর সব সহজ সুখ
সেই পড়ন্ত বিকেলের রোদে এসে থেমে আছে।

এখন ফাগুন যায়, আবার ফাগুন আসে
আসে না শুধু আমাদের কাটানো দিনগুলি।
সময়ের খাতায় কত দিন, কত মাস জমেছে;
তার শাসন বারণের অনুরাগী কণ্ঠ
আর কোনো সন্ধ্যায় শুনিনি।
শুনেছি সে সংসারী হয়েছে!
না জানি কোন উঠোনে এখন বসন্ত নামে,
কোন আকাশের নিচে সে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বালে।
তবু আমার জানতে ইচ্ছে করে–
পড়ন্ত বেলার নদীর ঝিলিমিলি স্রোতে,
পাতাঝরা ডালে কোকিলের দীর্ঘ ডাকে,
সজনে কিংবা ভাটি ফুলের গন্ধে,
আঁচলে দখিনা হাওয়া লাগলে,
এক মুহূর্তের জন্যেও কি তার বুক কেঁপে ওঠে?
কোন নামহীন শূন্যতা কি হঠাৎ এসে বসে তার পাশে?
মায়াভরা মুখে প্রাণোচ্ছ্বল হাসি ঝরলেও
চোখের কোণে কি অকারণে জমে ওঠে এক ফোঁটা জল?

✍️০৪ ফাল্গুন ১৪৩২

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments