কলমে : রাজ সেন
10.08.2023 পর্ব – 1
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে Breakfast হয়ে গিয়েছিলো প্রিয়তোষের । Breakfast এর সময়ে মোবাইল বেজে ছিল । Charge থেকে খুলে দেখলো Rohit ফোন করেছিল পরপর তিনবার । হাতে কাজ নেই বেশ কিছুদিন ছাত্র শীর্ষকে তাই একটু বেশি করে পড়িয়ে নিচ্ছিলো প্রিয়তোষ । ওকে সাড়ে নটায় টাইম দেওয়া আছে । এখনই সাড়ে আটটা বাজে । বেশ খানিকটা সময় হাতে আছে । ভাবলো রোহিতকে কল ব্যাক করে নি । ছেলেবেলাকার বন্ধু . স্কুলে একসঙ্গে একই ক্লাসে পড়তো দুজনে । কলেজেও তাই , শুধু মাস্টার্স এ স্ট্রিম আলাদা হয়ে গিয়েছিলো দুজনের , দুজনেই M.Sc. র স্টুডেন্ট ছিল । প্রিয়তোষ ফিজিক্সের আর রোহিত কেমিস্ট্রির । প্রিয়তোষ মোবাইল এ রোহিতের নম্বর সার্চ করতে যাচ্ছিলো , এমন সময়ে মোবাইল বেজে উঠলো । রোহিতেরই ফোন . প্রিয়তোষ ফোনটা রিসিভ করলো – ” হ্যালো ! ” রোহিত বললো – ” বিশেষ প্রয়োজনে ফোন করেছিলাম। এতো বেলা অবধি ঘুমোচ্ছিস তুই.” প্রিয়তোষ – “কাল হাতের কাজগুলো সারতে সারতেই অনেকটা রাত্রি হয়ে গেলো . Laptop বন্ধ করেছি তখন রাত দুটো বেজে গিয়েছিলো।
বল , কি বলবি বল , অনেকবার ফোন করেছিস । Extremely sorry !” রোহিত বললো – ” শোন ! Professor Andersson তোকে বিশেষ কারণে একবার ডেকেছেন ,সম্ভব হলে আজই দেখা করিস। কলেজ এ 2nd.period এ ওনার ক্লাস আছে 10:40 – 11:20 । আমরা by 11:15 কলেজ এ পৌঁছে যাবো , বুঝলি .” প্রিয়তোষ – ” আবার সেই Ph.D র জন্য পীড়াপীড়ি ! আমি Ph.D করবো না .আমি যে Private Investigator হবো , এটা ছোটবেলা থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম , তুই তো সব জানিস রোহিত ! কতলোকে এই নিয়ে কত ঠাট্টা-ইয়ার্কি করেছে , কিন্তু আমার decision বদলায় নি । রোহিত – ” ঠিক আছে দেখা যখন করতে চাইছেন , একবার দেখা করে তোর যা বক্তব্য জানিয়ে দে ওনাকে , তবে অন্য কিছুও হতে পারে । আমি by 11 তোর বাড়ি পৌঁছচ্ছি , তারপর দুজনে একসঙ্গে যাওয়া যাবে .” – ” ওকে !” বলে ফোন কেটে দেয় প্রিয়তোষ । শীর্ষকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে সকাল ন’টায় ডেকে নেয় ।
মনে মনে ভাবে এবার পুরোপুরি কাজে নেমে পড়তে হবে , সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে সে .ভালো Private Investigator হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতেই হবে তাকে । Come on ! Priyotosh Chatterjee , Come on ! মনে মনে নিজেকে বলে প্রিয়তোষ । খবরের কাগজে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো প্রিয়তোষ .তার মোবাইল-এ Missed call দিয়ে শীর্ষ জানিয়ে দিলো সে এসে গেছে .Next year 2022 তে Higher Secondary পরীক্ষায় বসবে সে । কিন্তু প্রিয়তোষের সহকারী হিসেবে যে সে কাজ করবে একথা প্রিয়তোষকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ । প্রিয়তোষ রাজী হয়েছে শীর্ষপন – এর বাবা-মা রাজী আছেন শুনে । খানিকক্ষণ অঙ্ক করার পর শীর্ষ প্রিয়তোষকে বললো – ” তোমাকে একটু চিন্তিত দেখাচ্ছে আজ প্রিয় দা , কিছু হয়েছে ? – ” না ,তেমন কিছু নয় ” প্রিয়তোষ উত্তর দেয় . – “তার মানে হয়েছে . কি এমন হলো প্রিয়দা ? তুমি বেশ অন্যমনস্ক আছো আজ .আমাকে বলে হালকা হওয়া যায় না ? ” প্রিয়তোষের মুখে সব শুনে শীর্ষ বলে ” ওহ ! এই ব্যাপার ! তা তুমি ওনাকে আরেকবার দেখা করে জানিয়েই দাও যে তুমি Ph.D করতে পারবে না . আসলে তোমার মতো ভালো স্টুডেন্ট Ph.D করবে না , এটা উনিও ঠিক মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না , হাজার হোক , মাস্টারমশাই তো ! তার ওপর কিনা Dr.Arthur Andersson ! সারা জাগানো বিশ্বমানের পদার্থবিদ যিনি নাকি আমেরিকার Harvard University র Research Scholar ছিলেন , তারপর ঐদেশে ও বিদেশে বেশ কিছু ইউনিভার্সিটি তে পড়িয়ে বেঙ্গালুরু র “Indian Institute of Science ” হয়ে এসেছেন কলকাতার এই নামী ইউনিভার্সিটি তে Head of the department হয়ে ।
গত বছর তো Nobel prize এর সম্ভাব্য প্রাপকদের তালিকায় ওনার নাম ও ছিল । এ হেন নামী লোক তোমাকে ওনার Research Assistant করতে চাইছেন , তুমি আরেকবার ভেবে দেখলে পারতে প্রিয়দা !” শীৰ্ষর কথার কোনো উত্তর না দিয়ে প্রিয়তোষ শুধু না সূচক মাথা নাড়লো । পড়া হয়ে গেলে শীর্ষ যাবার সময় বলে গেলো – “আমি কিন্তু কাল এসে সব শুনবো প্রিয়দা , কেমন ? ” প্রিয়তোষ ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে তার সম্মতি জানালো অন্যমনস্কভাবে । রোহিতকে সঙ্গে নিয়ে প্রিয়তোষ যখন ইউনিভার্সিটি তে পৌঁছলো তখনও 11:15 বাজেনি .যে ঘরে প্রফেসর অ্যান্ডারসন ক্লাস নিচ্ছিলেন তার বাইরে অপেক্ষা করছিলো তারা । ক্লাস শেষ হতে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে তিনি প্রিয়তোষদের নিয়ে গেলেন তার ল্যাবরেটরি-তে । এই ল্যাবরেটরি-তে এলেই প্রিয়তোষ কেমন যেন একটু দুর্বল হয়ে পড়তো । এখানে এর আগেও বার কয়েক এসেছে সে .প্রফেসর অ্যান্ডারসন Ph.D করার জন্য অনুরোধ জানালেন প্রিয়তোষকে । স্টাইপেন্ড এর ব্যবস্থা করে দেবার ও প্রতিশ্রুতি দিলেন । কিন্তু প্রিয়তোষ অনিচ্ছার কথা জানালে তিনি কিছুটা নিরাশ হয়ে বললেন – ” তোমার মতো প্রসপেক্টিভ স্টুডেন্টদের জন্যই আমার এদেশে আসা .যদি কখনো ডিসিশন চেঞ্জ করো আমাকে নিশ্চয় জানাইবে ।” আজ ওনার সঙ্গে ওনার খুব প্রিয় এক ছাত্রী এমিলি অ্যাশ ছিলেন ।
প্রফেসর প্রিয়তোষের সঙ্গে এমিলির পরিচয় করিয়ে দিলেন । প্রিয়তোষ “হ্যালো” বললে এমিলি ও ” হাই ” বলে হাসিমুখে প্রত্যুত্তর দিলেন । ফেরার পথে রোহিত-এর কাছ থেকে প্রিয়তোষ জানতে পারলো যে , রোহিতের সঙ্গে এমিলির আগে থেকেই পরিচয় আছে । মাঝে মাঝে ইউনিভার্সিটিতে দেখাও হয় তাদের ,যদিও তারা দুজন আলাদা ডিপার্টমেন্টের । কথায় কথায় রোহিত জানায় যে , এমিলির বাবা মার্কিন হলেও মা ভারতীয় । এমিলির বাবা মারা যেতে ওর মা ছোট্ট এমিলিকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন বেঙ্গালুরুতে ওনার বাবার বাড়িতে…. । ( চলবে…. )


