তার গল্প কেউ আজ আর শোনে না….
রেলওয়ে কলোনির ছোট ঘর টি কোন রকমে চাটাই এর বেড়া দেওয়া। এই ঘর টি তাদের একমাত্র সম্বল । একাত্তরের সময় থেকে থেকে রেল তাদের উপার্জনের একমাত্র পথ।ফেরী করে খাবার বিক্রি করে তাদের দিন টা কোন রকমে চলে যায় ।যেদিন তার শরীল টা পেরে ওঠে না সেদিন তাদের দুইজনকেই পুরো দিন টা উপোস থাকতে হয় ।দেখতে কত দিন চলে গেল তবু এই দুই বুড়োবুড়ির পাশে কেউ দাঁড়ায় না। ছেলে টাও আর খোঁজ নেই না সে আছে মহা সুখে ।সকাল হলেই তার বানানো খাবার নিয়ে ছুটে যওয়া এই বগি থেকে ওই বগি তবু একটু সময় পেলেই কারো সাথে গল্প করতে ইচ্ছে করে সেই পুরানো দিনের স্মৃতির কিছুটা আংশ বয়সের ভারে শরীল আর পেরে ওঠে না । মাঝে মাঝে তিনি বলেই ফেলেন এভাবে আর কদিন চলবে ।
জোটে না কোন ভাতা তবু সেদিন দাড়িয়ে ছিলাম মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে এই খাবার নিয়ে সেদিন তাদের ক্ষুধা নিবারন করেছি কেউ মনে রাখেনি
তবু তোমাকে আমার এই দুঃখের দগদগে স্মৃতি গুলো শুনিয়ে নিজেকে বড্ড হালকা লগছে ।
কেউ তো আর তোমার মথ দু-দন্ড দাঁড়িয়ে আমার কথা গুলো শোনে না। তোমাকে পেয়ে অবশেষ মনের ভিতর বসে থাকা কথাগুলো বলে নিজেকে বড্ড হালকা করতে পারলাম। আমাদের কিছু দরকার নেই শুধু এইটুকু যে কারোর সাথে দু’দণ্ড বসে কথা বলতে পারলে খুব ভালো লাগে বয়স তো শেষ হয়ে চলল হয়তো দুদিন পরে শেষ আশ্রয়স্থল হবে কবর বাবা অনেক ভালো থেকো আর সময় পেলে আবার এসো দু’দণ্ড কথা বলব।
…..শুভ জিত দত্ত



