ফারুক আহম্মদ ।। স্বপ্নসারথি শব্দটি একটি আন্দোলনমূখী ও অতি আপন শব্দ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০১৬ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে এই শব্দটির ব্যবহার চোখে পড়ার মত। বাংলাভাষার যে ব্যঞ্জনা তা সাগরের ঊর্মীমালার থেকেও ঝংকারিত বটে। সেই ঝংকার আসে একজন কবি বা লেখকের কলম থেকে। ভাবনাদ্রোহে জ্বালিয়ে নির্যাস বেরিয়ে যে নতুন শব্দ সৃষ্টি হয় তাঁর নামইতো কবি। কবি তাই সাধক বা ধ্যাণী বটে। কথা বলছিলাম যুক্ত শব্দের সমন্বয়ে নির্মিত এক অসাধারণ কাব্যিক শব্দ স্বপ্নসারথি নিয়ে। এই শব্দটি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানুষ উচ্চারণ করছেন। ভাবছেন ও লিখছেন। কথা না বাড়িয়ে এই শব্দের জনক কবি শাহানুর আলম উজ্জ্বল এর কাছে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানব। তিনি স্বপ্নসারথি শব্দটি কীভাবে এনেছেন, কীভাবে ভেবেছেন এবং লিখেছেন ?
এ বিষয়ে কবি শাহানুর আলম উজ্জ্বল বলেন, বাংলা ভাষায় যে শব্দভান্ডার বিদ্যমান তারমধ্যে সারথি শব্দটি আছে। সারথি শব্দের অর্থ হচ্ছে রথের চালক। সেই সারথি শব্দটির আগে স্বপ্ন শব্দটি যুক্ত করে আমি স্বপ্নসারথি লিখেছিলাম। মূলতঃ বইয়ের নামের জন্য এই শব্দটি লিখেছিলাম ২০১১ খ্রীষ্টাব্দে । আমি অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম, যে একটি বইয়ের নাম দেব। তবে সেই নাম হবে ভিন্ন ও কাব্যিক।
পরবর্তীতে স্বপ্নসারথি শব্দটি ব্যবহার করে বইটির নামকরণ করা হয় “স্বপ্নসারথি: কাব্যে বাংলাদেশের ইতিহাস”। ২০১৬ খ্রীষ্টাব্দে অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় বাংলার কবিতা প্রকাশন থেকে বইটি প্রকাশিত হয়।
শাহানুর আলম উজ্জ্বল আরো বলেন, ২০১৬ খ্রীষ্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করেন দৈনিক ভোরের কাগজ এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত। বইটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। এছাড়া আমার সুহৃদ জন ব্যাপকভাবে আলোচনা ও সমালোচনা করেন। এই শব্দটি বিভিন্ন অঙ্গনে প্রচারিত হচ্ছে । এমনকি সংসদ অধিবেশনে কথার মধ্যে আমরা যেন স্বপ্নসারথি হতে পারি” বলেও উচ্চারিত হয়েছে বলেও জেনেছি। রাজনীতির মঞ্চেও স্বপ্নসারথি শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে। টেলিভিশনের সংবাদেও এই শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে। এমনকি স্বপ্নসারথি শব্দটি ফেসবুকসহ অনলাইন কার্যক্রমেও চোখে পড়ছে। বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছে বারবার। শব্দটি যেভাবেই বন্ধন তৈরি করুক এটি একটি আশার সঞ্চার করে বলে আমি মনে করি। স্বপ্নের পথে শক্তি দান করে। শব্দ ও ভাষার নান্দনিক প্রয়োগ এবং প্রকাশটি কখনো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আসলে তখনই তৈরি হয় কবি লেখকের স্বার্থকতা।


