সিলেটে অবরোধ চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার পর পালাতে গিয়ে মোটরসাইকেলসহ গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত যুবদল নেতা দিলু আহমদ জিলু মারা গেছেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলে থাকা গ্রামের চাচাতো ভাই রফিক মিয়া গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লালাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানিয়েছেন, সকালে পিকেটিং করার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুজন আহত হয়েছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুপুরের দিকে জিলু মারা যান।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে যান গোলাপগঞ্জ যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য দিলু আহমদ জিলু। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ধাওয়া দিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন জিলু। পরে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়; এরপর তার মৃত্যুর খবর আসে বলে জানান তিনি।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জিলুসহ দুজন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে জিলু মারা গেছেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন জিলুর মোটরসাইকেলে থাকা তার চাচাতো ভাই রফিক। দুপুরে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রফিকের সঙ্গে কথা হয়। রফিক যুগান্তরকে জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। সকালে লালাবাজার এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য জিলুর সঙ্গে লালাবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। লালাবাজারের কাছাকাছি যেতেই সামনে কিছু মোটরসাইকেল আর পেছনে পুলিশের পিকআপ দেখতে পান। এমন সময় জিলু মোটরসাইকেল দ্রুত চালাতে গিয়ে পাশের একটি গাছে ধাক্কা খান। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশ গাড়ি থামিয়ে তাদের দুজনকে একটি গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠান।
রফিক জানান, তিনি কোনো দলের রাজনীতি করেন না। জিলু রাজনীতি করেন কিনা তাও তার জানা নেই। তার দোকান আছে কদমতলীতে। অবরোধে দোকান বন্ধ বলে তিনি জিলুকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন একটি কাজে।
তথ্যসূত্রঃ যুগান্তর


