জীবন
ছিলাম প্রথমে বাবার শরীরে ভাসমান। সেখান থেকে
শুক্রাণু পরবর্তী সময়ে আমার অস্তিত্ব সৃষ্টির পর থেকে লাভ করেছি চারটে জীবন। প্রথমে ছিলাম মায়ের গর্ভে। যা আমরা জানি না বা অনুভব করি না। বলতে পারি না পৃথিবীতে আসতে কোনো কষ্ট হয়েছিল কি না। কিংবা কতটুকু কেঁদেছিলাম তখন।
দ্বিতীয় স্থান হলো বর্তমান জীবন, অর্থাৎ এই পৃথিবী বাস। প্রতিটা মানুষের মত আমিও লড়াই করি। রুজির সাধনা আর আমার আল্লাহকে স্মরণ করতেই দিন কাবার। ভেতরে আমার বাবার মত আমিও বাবা হই। কষ্ট পাবার মতো মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে যাই কোথাও। অর্ধেক জীবন কাটে মানুষ হতে আর বাকি অর্ধেক মানুষ করতে। এভাবেই চলতে চলতে আমরা একসময় মৃত্যুর অপেক্ষা করি। একদিন ইহলীলা সাঙ্গ হয়ে যায়। মরে যাই আমরা। চলে যাই তৃতীয় ধাপের পরবর্তী জীবনে। সে জীবন কবরের জীবন। ইসলামের ভাষায় ‘ আলমে বরযাখ’। সেখানে সুদীর্ঘকাল ভালো কিংবা মন্দ কাজের প্রাথমিক ফলস্বরূপ আমরা ইল্লিন অথবা সিজ্জিনে থাকব। ভোগ করতে থাকব বেহেশতের কিংবা দোজখের নমুনা। আমার তখন আর পৃথিবীর কথা মনে থাকবে না। যেমন মনে নেই মায়ের গর্ভজীবনের কথা।
কবর জীবনের পর সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বিচারের মাধ্যমে শুরু হবে আমার বেহেশত কিংবা দোজখের স্থায়ী জীবন। যা অসীম ক্ষমতাবান মহান রবের কৃপাতেই হবে। তখন হয়ত আমি ভুলে যাব কবরের জীবন। মাহরে গায়েবজ্ঞানী আল্লাপাক নিজে আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি খারাপ হব নাকি ভালো হব তা তিনি জানেন একমাত্র গায়েব জ্ঞানী হবার কারণে। সে মোতাবেক আমার জন্য জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছেন। প্রশ্ন হলো- তাহলে আমি কে? আমার কী? আমার তো নিজের বলে আসলে কিছুই নেই। আল্লাহ রিজিক দিয়ে আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আমার ভেতরে বিপরীত লিঙ্গের সুখ ভরে দিয়েছেন তাও তো তাঁর সৃষ্টিকে জারি রাখতে। তাহলে আমার মানবজনমে লাভটা কী হলো? কিছুই না! শূন্য! সব শূন্য! আসলে আমি কেউ না। তিনিই মালিক। তিনিই সর্বেসর্বা। আই অ্যাম নাথিং। অনন্ত অসীম শক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন মাত্র। কবি নজরুলের কথাটাই তাই শেষে সামনে দাঁড়ায় – খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে / বিরাট শিশু আনমনে”।
—– এম জি মহসিন


