আমি ১৯৭১ দেখিনি ২০২৪ দেখেছি
আবু রাসেল
আমি দেখিনি উনিশশো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
আমি দেখিনি উনিশশো উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান ।
আমি দেখিনি উনিশশো একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
আমি দেখিনি স্বৈরশাসক এরশাদ হঠাও আন্দোলন।
আমি রং হেডেড শেখ হাসিনাকে দেখেছি।
আমি ২০২৪ এর জুলাই আগস্টের গণহত্যা দেখেছি।
গল্প শুনেছি ডাইনী বুড়ির,
গল্প শুনেছি কালনাগিনীর।
দেখিনি কখনও তার ভয়াল রুপ,
বাস্তবতায় দেখেছি শেখ হাসিনার নির্লজ্জ মুখ।
তাঁর ব্যক্তি স্বত্বা জুড়ে সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় পেয়েছি,
মুখের ভঙ্গিতে দেখেছি ডাইনী বুড়ির ও কালনাগিনীর স্বরুপ।
তার মাঝেই খুঁজে পেয়েছি,
প্রতিশোধ পারায়ণ আত্মবিলাসিতা’র অনন্য উদাহরণ।
সকল মিথ্যাচার ছাপিয়ে গেছে তার মিথ্যার কাছে,
কিছুতে কিছু হলেই মুক্তিযুদ্ধের বুলি আউড়ানো যার স্বভাব।
কথায় কথায় বিরোধীদের বলে রাজাকার রাজাকার,
কোথায় সে যুদ্ধ করেছিলো নেই কোনোই প্রমাণ।
নির্লজ্জের মত রণাঙ্গনের যোদ্ধা মহান স্বাধীনতার ঘোষক,
শহীদ জিয়াকেও রাজাকার বলতে করে না দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
সেই রাজাকার রাজাকার বুলিতেই,
হাসিনা হলো ছাত্র-জনতার ধিক্কারের পাত্র।
ছলচাতুরী সব ধরা খেলো,
২০ জুলাই ২০২৪ দেশজুড়ে কারফিউ জারি হলো।
কারফিউ জারির পর আমান চাচা বললো,
শুনেছো কিছু?
শুনেছি চাচা।
দেখেছি চেতানা বিক্রির নির্লজ্জ বেহায়াপনা,
দেখেছি নরপশুর প্রেতাত্মা হাসিনার ষড়যন্ত্র,
দেখেছি তার পোষা কুত্তাগুলোর ঘেউঘেউ,
দেখেছি প্রতিবাদীর নিকট অন্যায়কারীর অসহায় আত্মসমর্পণ।
দেখছি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাইদের বুকে,
পুলিশের চালানো বুলেটের নির্মম পরিনতি,
দেখেছি কপালে গুলিবিদ্ধ মায়াবী ছেলে মুগ্ধ
পানি পানি লাগবে চিৎকার দিতে দিতে
সকল জনতার চোখের পানি ঝড়িয়ে ঘুমিয়ে গেল চিরতরে
এরকম নাম না জানা অগণিত সাইদ মুগ্ধ শহীদ হওয়ার দৃশ্য।
দেখেছি অসহায় পরিবারের স্বজন হারানোর করুণ কান্না।
দেখেছি তরুণের তেজোদৃপ্ত চেহারায় লেখা,
স্বদেশ প্রেমের মহাকাব্য রচনার উন্মাদনা।
যে উন্মাদনায় সৃষ্ট জ্বালাময়ী স্লোগানে স্লোগানে,
উত্তাল ঢেউয়ের স্ফুলিঙ্গের সম্মুখে-
সাউন্ড গ্রেনেডের ধ্বনি,
টিয়ার সেলের ঝাঁঝালো গন্ধ,
রাবার বুলেটের ব্যথার যন্ত্রণা,
মুহুর্মুহর তাজা গুলির শব্দ,
নির্মম নির্যাতনের প্রতিটি মুহূর্ত,
তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ হয়ে,
পুষ্পের সৌরভময় গন্ধে রূপায়িত হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা দেশপ্রেমের অমিয় সুধা পান করেছে,
আতি নেতা পাতি নেতা হটাতে ছাত্র-জনতা যুদ্ধে নেমেছে।
ভয় পেয়ে রং হেডেড হাসিনা পালিয়ে গেছে,
৫ আগস্ট গণভবনের ছাত্র জনতার ঢল নেমেছে।
সে যুদ্ধে ছাত্র-জনতার জয় হয়েছে,
স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা নতুন স্বাদ পেয়েছে।


