প্রকৃতি নিজেই এখন কবি
শেখ মাফিজুল ইসলাম
প্রকৃতি নিজেই এখন কবি
বিস্ফারিত চোখ তুলে
জ্বলন্ত সূর্য সাক্ষী রেখে উষ্ণ মাটির কথা বলে
উষ্ণ ঠোঁটের কথা বলে, গাত্র দাহের কথা বলে
নদী, খাল, বিল, হাওড়, বাওড়ের কথা বলে
পরম কৌতুকে খাখা মাঠের দিকে চেয়ে থাকে
দমকা হাওয়ায় শুকনো পাতায় ঝড় তোলে।
পাখির ডানায় ধুলো ওড়ে, উষ্ণ
ধূলো মাখা কুকুর গা’ ঝাড়ে উষ্ণ
কলসি কাঁখে যে রমণী নদী থেকে ফেরে
জল উষ্ণ, গায়ে জড়ানো ভিজে গামছা, উষ্ণ
যে কৃষক জমির আল বেয়ে হেঁটে যায়
নিদাঘ দগ্ধ, চুল তার উসক খুসক,
খালি পায়ের পাতায় উষ্ণতা টের পাই।
প্রকৃতি সমঝদারও বটে
চৌচির মাটির সাথে কথা বলে
আর্দ্রতাহীন গরম হাওয়ার সাথে কথা বলে
সময় হলে নীল সাগরের কাছে যায়, কথা বলে।
প্রকৃতি রসিকও বটে
এই বুঝি ঝড় এলো এলো
এই বুঝি মেঘ এলো গেল
এই বুঝি থমকে গেল বাতাস
এই বুঝি ঝুম বৃষ্টির পূর্ব আভাস।
না কিছুই না,
কেবলই ধুলো ওড়াউড়ি
আবেগ মথিত মনে কেবলই সুসসুড়ি
জমাট বাঁধা আশা, সে তো শূন্যে ওড়া ঘুড়ি।
থালায় ঢালা ভাত, সেও গরম
গরম বাসন কোসন, বাটির তরকারি
দরকারি কথায় বউ ভীষণ গরম
কবির দাস আমি
হারিয়ে ফেলেছি লজ্জা শরম।


