চালাক শিয়ালের গল্প | আবু রায়হান |
এক গ্রামে বিশাল বড় একটি মাঠ ছিল। সেই মাঠে নানা প্রজাতির প্রাণী শান্তিতে বসবাস করত। তাদের মধ্যে অল্প কিছু শিয়ালও ছিল।
হঠাৎ করে দেখা গেল, সেই মাঠে নানা রকম অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। এসব অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রাণীরা মিলে একটি “সুশীল সমাজ কমিটি” গঠন করল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই কমিটিতে একটি চালাক শিয়ালকেও সদস্য হিসেবে রাখা হলো। কমিটির কার্যক্রম বেশ ভালোই চলছিল।
কিন্তু হঠাৎ একদিন চালাক শিয়াল কমিটির সবাইকে ডেকে বলল, “আমার তো একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে!”
সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী সমস্যা, বলুন তো?”
শিয়াল মুখ ভার করে বলল, “এই মাঠে আমাদের শিয়ালদের জনসংখ্যা খুবই কম। মাঠে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে আমার এখন আরও জনবল দরকার।”
শিয়ালের এই কথায় উপস্থিত প্রাণীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেল। কারণ সবাই জানত—শিয়াল নিজের স্বার্থ ছাড়া কারও ভালো চায় না। তাই ওকে কীভাবে থামানো যায়, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ল সবাই।
হঠাৎ এক বুদ্ধিমান প্রাণীর মাথায় চমৎকার একটি বুদ্ধি এলো। সে সামনে এসে শিয়ালকে বলল, “কী যে বলেন আপনি! আপনার তো এই মাঠে প্রচুর জনসংখ্যা। যদি বিশ্বাস না হয়, তবে কাল সন্ধ্যার পর আপনাকে হাতেনাতে তা প্রমাণ করে দেব।”
অন্যান্য প্রাণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেল—সে কীভাবে এত বড় কথা প্রমাণ করবে?
পরদিন সন্ধ্যার পর কমিটির সবাই এক জায়গায় উপস্থিত হলো। শিয়াল অধৈর্য হয়ে বলল, “তাড়াতাড়ি প্রমাণ করো, কীভাবে আমার জনসংখ্যা বেশি?”
বুদ্ধিমান প্রাণীটি বলল, “নিয়ম খুব সহজ। আমরা এখানে একে একে নিজেদের ভাষায় ডাক দেব। কার ডাকে কতজন সাড়া দেয়, তা দেখলেই বোঝা যাবে কার জনসংখ্যা কত।”
প্রথমে অন্য প্রাণীরা একে একে ডাক দিল, কিন্তু চারপাশ থেকে বিশেষ কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। এরপর যখন শিয়াল তার গলার সবটুকু জোর দিয়ে একবার ডাক দিল—মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের জঙ্গল ও মাঠের কোণ থেকে শিয়ালের “হুক্কাহুয়া… হুক্কাহুয়া…” ডাক রটে গেল!
নিজের জাতের সাড়া দেখে শিয়াল তো মহা খুশি! সে নিজেকে খুশি রাখার জন্য মাঝে মাঝে রাত হলেই “হুক্কাহুয়া হুক্কাহুয়া” ডাক দেয় এবং নিজেকে বিরাট কিছু মনে করে সে মাঝেমধ্যেই উচ্চস্বরে “হুক্কাহুয়া” ডাক দিয়ে ওঠে।


