ভাষায় অহংকার
-শুভ জিত দত্ত
আমরা হলাম জাতিতে বাঙালি
ছিনিয়ে এনেছি কথার ঝুলি
এবার বাঁধাহীন ভাবে শিখব ভাষা
ফিরিয়ে এনেছি কথার বুলি
দাপিয়ে বেড়িয়েছি ভাষার দাবিতে
অস্ত্র উঁচিয়ে মেরেছে গুলি
ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে এবার তবে
নিজের ভাষায় কথা বলি
যখন মায়ের ভাষায় বলতে কথা
এতই যখন তোমার বাঁধে
পরের ভাষায় বলতে গেলে একটু
ভুলে বিপদ আসে কাঁধে
এমন কোনো ভাষা কোথাও কি আছে
কিনতে গেলে রক্ত লাগে
এই ভাষা নিয়ে করলে ছেলে খেলা
করি তখন প্রতিবাদ রাগে।।
কল্পনার দুয়ার
-শুভ জিত দত্ত
তুমি কখনো স্বপ্ন বুনেছো ঘুমের ঘোরে
নাকি সে শুধু আমার ভাবনা
রাত জাগা পাখি হয়ে কখন তুমি কি
নির্ঘুম রাত যাপন করেছো
না এসব আমার বৃথা কল্পনা তোমাকে
ঘিরে।
তোমার কল্পনার জাল বিস্তারে আমাকে
কি কখনো ঠাঁই দিয়েছো
না আমি বরং বৃথা চেষ্টায় লিপ্ত ছিলাম
যদি ঠাঁই পাওয়ার সুযোগ হয়।
তুমি কি আমাকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে
পারি জামাও মনের খেয়ালে
রঙিন আকাশে স্বপ্নের সাথে খেলা করো
আমাকে নিয়ে সময়ে অসময়ে।
আমার আসার পথের ধারে ফুল বিছিয়ে
এখনো কি অপেক্ষায় থাকো
রাত জেগে দোয়ারে দাঁড়িয়ে এখনো কি
আমার আসার প্রহর গোনো।
এগুলো কি শুধুই আমার কল্পনায়
তোমাকে নিয়ে মিছে ভাবনা।
তবুও তুমি যেন আমার পুরোটা জুড়ে
তোমার অবাধ বিচরণ ভূমি।
একরাশ স্বস্তি
-শুভ জিত দত্ত
আমার সময় গুলো হারিয়ে গেছে অজস্র কাজের ভীড়ে
যেখানে দু’দণ্ড ক্লান্তি আমার কাছে অসহায় হয়ে ফিরেছে
নিজেকে আড়াল করবার চেষ্টা যতটা করেছি ,বিশাল
এক বোঝা চেপে ধরেছে ঠিক ততটাই।
নিজের কথা গুলো অগোছালো ভাবে জড় হচ্ছে ক্রমে
একটা সময় না বলা কথাগুলো হারিয়ে গেছে অতল
গহ্বরে ।
এই অস্থিরতা সারাদিন ভর করে ,আমাকে গ্রাস করছে।
এতদিন পর এক স্বস্তির জায়গা আছে , সে জায়গা তুমি
মুছে গিয়েছে কষ্টের চিহ্ন টুকু, তোমার হাত তখন আমার
কপাল যেদিন স্পর্শ করেছিলো।
আমার ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয় যখন আমার চুলের ফাঁকে
নরম স্পর্শ অনুভব করি।
আমার ঘুম হারিয়ে গিয়েছিল ,চোখে ঘুমের লেশ ছিল না
তোমার পাশে থাকা যেন আমার স্বস্তির ঘুমের কারণ
এখন আমি শত সহস্র কষ্ট সহ্য করতে পারি, তারা চাইলেও
কোনো মতে আমাকে ছুঁয়ে যেতে পারে না কারণ
প্রতিটাই সন্ধ্যায় নিজের কষ্টের কথা বলতে পারি।
আমার খারাপ লাগা গুলো এখন দূর হয়ে গেছে
এখন ভাল থাকার একমাত্র কারণ কিন্তু তুমি।।


