জল থৈ থৈ হবার কথা খাল বিল আর মাঠের জমিন
বেশ কিছুদিন বর্ষা তো নেই শূন্য আকাশ মেঘও বিলীন
পোষ-মানা মাছ তারাও চ’রে অল্প জলে,
কোলাহলে ব্যাঙ ডাকে না আগের মতো পুকুর পাড়ে
অবিরত ঝিল্লির-ডাক সন্ধ্যা বেলা জোনাক-জ্বলা ঝোপঝাড়ে আর বাঁশ বাগানে
কে আর শোনে কান পেতে আজ তাদের গীতি।
আষাঢ়-শ্রাবণ মন উতলা হবেই হবে
সেদিন বুঝি আসবে না আর, সেই মধুক্ষণ ভেস্তা যাবে?
আর কতবার ডাকবে হবে,” ও কালো মেঘ, আই ফিরে আই, আমার ডেরায় , উতল হাওয়ায় দুজন মিলে যায় ভেসে যায় ——-
মেঘের জলে ভরসা যাদের দুঃখ-বাতাস তাদের ঘরে,
গাছের পাতা নড়ে চড়ে বৃষ্টি তো নেই মুষল ধারায় ,
মনে পড়ে
পাকা ধানের স্বপ্ন এবার জলাঞ্জলি, কী আর বলি?
কোথাও আবার বন্যা জলে হাবুডুবু, চলছে জীবন জোড়া তালি। আমরা ডাকি
কোথায় গেলি জল ভরা মেঘ, তোর সে আবেগ
গ্রাস করেছে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি?
ডিপটয়েল আর স্যালোমেশিন আর কতো দিন উগরাবে জল ? কৃষক কী আর ধন্য হবে? কষ্ট পাবে
তেল কিনতে, কারেন্ট বিলের শোধ মেটাতে
মোটা টাকা গচ্চা যাবে।
জলের ভেতর সূর্য তো আর
চ’রে-না সেই আগের মতো
দিনের বেলা বৃষ্টি ভেজা ছেলে বেলা, সেও তো গত ।
বৃষ্টি থামার অবকাশে
বৃষ্টি-স্নাত ঝলমলে চাঁদ
সেও তো এখন আগের মত দেয় না উঁকি
রাত্রি হ’লে মিটমিটিয়ে জ্বলছে তারা
বৃষ্টি হওয়ার নেই তো ঝুঁকি।
কর্দমাক্ত রাস্তাগুলো
খালি পায়ে হাঁটতে ভীষণ মজা ছিল
শ্রাবণ তবু
সকাল বিকেল উড়ছে কেবল পথের ধুলো ।
হাল ছাড়ে না তবু মানুষ, সবুর করলে মেওয়া ফলে
আশায় আছে, আশায় থাকে,
মেঘের দিকে দৃষ্টি রাখে
খাল, বিল আর নদী নালা ভরবে জলে
খুশি হবে মাঠ-ওয়ালা, সারা বেলা
ভিজবে মাটি বৃষ্টি মুখর কোলাহলে ।


